রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

ইকরামা বিন আবু জাহেল । আহমাদুল্লাহ আশরাফ

অনেক দিন আগের কথা। আমাদের প্রিয় নবী সাঃ এর যুগের কথা। সে যুগে আবু জাহেল ছিলো কট্টরপন্থী এক কাফের। নবীজীর চরম শত্রু। তিলে তিলে নবীজীকে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিলো সে। কষ্ট দেয়ার এমন কোনো পন্থা বাকি রাখে নি, যা তার জানা ছিলো। প্রথমে সবাই তাকে 'আবুল হেকাম' মানে 'জ্ঞানের পিতা' বলে ডাকতো। কিন্তু আল্লাহ ও তার রাসূল সঃ এবং এলমে ওহীর সামনে সে জ্ঞানের কোনো মূল্য নেই। অতি তুচ্ছ। তাই প্রিয় নবী সঃ তাকে ডাকতেন 'আবু জাহেল' মানে 'মূর্খের পিতা' বলে। সেখান থেকেই সবাই আবু জাহেল বলতে শুরু করে। আবু জাহেলের স্ত্রী-পুত্ররাও ছিলো য়ার মতো কঠোর ও চিপা জ্ঞানের অধিকারী। এবার শোন আসল ঘটনা। মক্কা বিজয়ের পরের কথা। ইকরামা ছিলো আবু জাহেলের পুত্র। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করে রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে জাহাজে চড়ে সাগর পাড়ি দিচ্ছিলো। কতদূর যেতেই বড় ঝরের কবলে পড়ে যায়। জাহাজ ঢেউয়ের মাঝে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। কাপ্তান সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো- এক আল্লাহকে ডাকো, এখানে তোমাদের উপাস্যরা কোনো কাজে আসবে না। কাপ্তানের কথা শুনে ইকরামার ভিতরটা নাড়া দিলো। তাই যদি হয় তবে তিনিই তো আসল খোদা। আর এই তো সেই প্রতিপালক, যার দিকে মুহাম্মদ আমাদের ডেকেছিলো। সগরে যদি মুহাম্মদের প্রতিপালক ছাড়া মুক্তি না পাওয়া যায়, তবে তো স্থলেও তার সাহায্য ছাড়া মুক্তি নাই। ইকরামার পরিবর্তন শুরু হলো। পেয়ে গেলো নববী আদর্শের ঝর্ণাধারার হাতছানি।

একসময় পাল্টে গেলো পুরো জীবন। ইকরামা খোদার দুয়ারে হাত উঠালো। অঝর ধারায় অশ্রু ঝরালো। 'হে আল্লাহ! হে দয়াময়! তুমি যদি এ বিপদ থেকে আমাকে রক্ষা করো, তাইলে ফিরে ফিরে গিয়ে মুহাম্মদ সঃ এর হাতে হাত সমর্পণ করবো। আমার ধারনা, তিনি স্বীয় মহৎ চরিত্রবলে আমার অপরাধ ক্ষমা করবেন।'

হলোও তাই, আল্লাহ ঝর বন্ধ করে দিলেন। তীরে ফিরে ইকরামা দৌঁড়ে হাজির হলো রাসূলের সঃ দরবারে। 'হে রাসূল! আমার জীবন কোরবান হোক আপনার উপর। আমি বিশ্বাস করি ইসলামের প্রভু-ই আসল প্রভু। দয়া করে আমাকে মুসলমান বানিয়ে ধন্য করুন।' এই বলে রাসূলের সঃ সামনে মাথা নত করলো। রাসূল সঃ বললেন আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত করা ইসলাম সমর্থন করে না, মাথা উঠাও। এরপর ইকরামাকে রাসূল সঃ কালিমা পড়ালেন। মুসলমান বানিয়ে ধন্য করলেন। এরা ছিলেন রাসূল সঃ এর সেই সব নক্ষত্রতুল্য  সাহাবী, যাদের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ বলেন- রাদিয়াল্লাহু 'আনহুম ওয়া রাদূ 'আনহু

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা: কী বলে ইসলাম?

= পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা জায়েজ কিনা-এ নিয়ে আমাদের সমাজে মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। আসলে কোরআন, হাদিস ও সালফে-সালিহীনের বক্তব্যে এ ...