রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা: কী বলে ইসলাম?

=পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা জায়েজ কিনা-এ নিয়ে আমাদের সমাজে মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। আসলে কোরআন, হাদিস ও সালফে-সালিহীনের বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক পাওয়া যায় না। তবে বর্তমান বিশ্বে এ নিয়ে কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে আমাদের দেশে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসা, শোয়া বা ঘুমানোর ব্যাপারে বিতর্ক দেখা ও শোনা যায়। অনেকে এটিকে গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য করেন আবার কেউ কেউ এতে কোনো অন্যায় দেখেন না। অনেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন কুসংস্কারেও বিশ্বাস করেন। যেমন-পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমালে হায়াত কমে যায় বলে ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
ইসলামে কোনো বিষয়কে হালাল বা হারাম সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্যে তার পক্ষে বা বিপক্ষে গ্রহণযোগ্য দলিল থাকা জরুরি। দলিল ছাড়া ইসলামে কোনো কিছু হালাল বা হারাম বলা যায়।
তাই প্রথমে এ বিষয়টি জায়েজ কিনা তা জানতে হলে খুঁজতে হবে-এ নিয়ে কোনো দলির আচে কিনা। ইসলামী আইনের মূলনীতি হলো, ‘সাধারণভাবে সবকিছু জায়েজ, যতক্ষণ না সেটি হারাম হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়।’
এই মূলনীতি অনুয়ায়ী আমরা যদি এ মাসআলাটি বিশ্লেষণ করি, তাহলে বুঝা যায়, পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানোর ব্যাপারে কোনো আদেশ বা নিষেধ নেই। কেউ যদি বলে এটি হারাম তাহলে এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য দলিল দেখাতে হবে।
আমরা ‘পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো নিষেধ’ মর্মে কোনো বক্তব্য কোরআন, হাদিস বা ইমামদের বক্তব্য পাইনি। তাই এটি নিষেধ করার কোনো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ নেই বলে দাবি করা যায়
অনেকে পশ্চিম দিকে (কিবলার দিকে) মুখ ফিরিয়ে বা পিঠ ফিরিয়ে পায়খানা-প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞায় বর্ণিত হাদিসের ওপর কিয়াস করে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসাকে নাজায়েজ বলে থাকেন।
অথচ এমন ধারণার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। খোলা স্থানে কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে বা পিঠ ফিরিয়ে পায়খানা-প্রস্রাব করা নিষেধ- এ সংক্রান্ত স্পষ্ট হাদিস রয়েছে (সুনান আন-নাসাঈ, হাদীস নং-২১, জামি আত-তিরমিযী, হাদীস নং-০৮)।
কিন্তু কিবলার দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা নিষেধ-মর্মে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি। তাই কিবলার দিকে তথা পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা নাজায়েজ- এ কথাটিও অপ্রমাণিত এবং ভুল।
এক প্রশ্নের উত্তরে সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বাজ (র.) বলেন, ‘এতে কোনো সমস্যা নেই। কোনো ব্যক্তি যদি তার দুই পা কিবলার দিকে ফিরিয়ে রাখে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এমনকি কেউ যদি মসজিদে হারামে বসেও কাবার দিকে পা ফিরিয়ে রাখে তাতেও কোনো সমস্যা নেই।’
আর শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উছাইমীনও (র.) বলেন, ‘কিবলার দিকে পা দিয়ে ঘুমাতে বা বসতে কোনো দোষ নেই।’
তবে কিবলা ও কাবা অত্যন্ত মর্যাদাবান দু’টি বিষয়। এগুলো ইসলামের শিআর বা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোকে কোনোভাবে অসম্মান করা, অবজ্ঞা করা বা এগুলোর প্রতি কোনো অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা মহা অন্যায়।
তাই কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে রাখে তাহলে তা মহা অন্যায় ও কবীরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে তা হবে কী হবে না-তা নির্ভর করে যে পা রাখছে তার ইনটেনশন বা নিয়তের উপর।
এক প্রশ্ন আসতে পারে যে, পশ্চিম দিকে পা রাখা যদি হারাম হয় তাহলে বিছানায় বা সমান কোনো স্থানে বসা কোনো মাজুর ব্যক্তি (অসুস্থতা বা কোনো সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি) কীভাবে বা কোন দিকে পা রেখে সালাত আদায় করবে?
উত্তর হবে অবশ্যই পশ্চিম দিকে অর্থাৎ কিবলার দিকে পা রেখেই তিনি সলাত আদায় করবেন।
ফিকহবিশারদরা বলেন, ‘যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বা বসে নামাজ পড়তে না পারেন, তাহলে কিবলার দিকে মুখ করে এক পাশে শুয়ে নামাজ আদায় করবেন। যদি সেটাও না পারেন তাহলে চিত হয়ে শুয়ে কিবলার দিকে পা দিয়ে নামাজ পড়বেন।’
এ দিক দিয়ে বলা যায়, যদি পশ্চিম দিকে পা রাখা হারাম বা নাজায়েজ হতো তাহলে সালাত আদায় কালেও তা হারাম হতো। এছাড়া তা ফিকহের কিতাবেও ফতোয়ায় উল্লেখ থাকতো।
সুতরাং বলা যায়, কিবলার দিকে বা পশ্চিম দিকে পা রেখে ঘুমালে হায়াত কমে যায় বা এ ধরনের কোনো কথা কোরআন ও হাদিসে নেই। তাই এগুলো বিশ্বাস করাও জায়েজ নয়।
বরং ইসলামের নামে প্রচলিত এ রকম বহু অপ্রমাণিত ও অগ্রহণযোগ্য কথা বিশ্বাস, প্রচার ও প্রসার থেকে নিজে বিরত থাকা ও অপরকে বিরত রাখার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। এটি বিশ্বাস করাও ভিত্তিহীন।

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

ইকরামা বিন আবু জাহেল । আহমাদুল্লাহ আশরাফ

অনেক দিন আগের কথা। আমাদের প্রিয় নবী সাঃ এর যুগের কথা। সে যুগে আবু জাহেল ছিলো কট্টরপন্থী এক কাফের। নবীজীর চরম শত্রু। তিলে তিলে নবীজীকে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিলো সে। কষ্ট দেয়ার এমন কোনো পন্থা বাকি রাখে নি, যা তার জানা ছিলো। প্রথমে সবাই তাকে 'আবুল হেকাম' মানে 'জ্ঞানের পিতা' বলে ডাকতো। কিন্তু আল্লাহ ও তার রাসূল সঃ এবং এলমে ওহীর সামনে সে জ্ঞানের কোনো মূল্য নেই। অতি তুচ্ছ। তাই প্রিয় নবী সঃ তাকে ডাকতেন 'আবু জাহেল' মানে 'মূর্খের পিতা' বলে। সেখান থেকেই সবাই আবু জাহেল বলতে শুরু করে। আবু জাহেলের স্ত্রী-পুত্ররাও ছিলো য়ার মতো কঠোর ও চিপা জ্ঞানের অধিকারী। এবার শোন আসল ঘটনা। মক্কা বিজয়ের পরের কথা। ইকরামা ছিলো আবু জাহেলের পুত্র। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করে রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে জাহাজে চড়ে সাগর পাড়ি দিচ্ছিলো। কতদূর যেতেই বড় ঝরের কবলে পড়ে যায়। জাহাজ ঢেউয়ের মাঝে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। কাপ্তান সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো- এক আল্লাহকে ডাকো, এখানে তোমাদের উপাস্যরা কোনো কাজে আসবে না। কাপ্তানের কথা শুনে ইকরামার ভিতরটা নাড়া দিলো। তাই যদি হয় তবে তিনিই তো আসল খোদা। আর এই তো সেই প্রতিপালক, যার দিকে মুহাম্মদ আমাদের ডেকেছিলো। সগরে যদি মুহাম্মদের প্রতিপালক ছাড়া মুক্তি না পাওয়া যায়, তবে তো স্থলেও তার সাহায্য ছাড়া মুক্তি নাই। ইকরামার পরিবর্তন শুরু হলো। পেয়ে গেলো নববী আদর্শের ঝর্ণাধারার হাতছানি।

একসময় পাল্টে গেলো পুরো জীবন। ইকরামা খোদার দুয়ারে হাত উঠালো। অঝর ধারায় অশ্রু ঝরালো। 'হে আল্লাহ! হে দয়াময়! তুমি যদি এ বিপদ থেকে আমাকে রক্ষা করো, তাইলে ফিরে ফিরে গিয়ে মুহাম্মদ সঃ এর হাতে হাত সমর্পণ করবো। আমার ধারনা, তিনি স্বীয় মহৎ চরিত্রবলে আমার অপরাধ ক্ষমা করবেন।'

হলোও তাই, আল্লাহ ঝর বন্ধ করে দিলেন। তীরে ফিরে ইকরামা দৌঁড়ে হাজির হলো রাসূলের সঃ দরবারে। 'হে রাসূল! আমার জীবন কোরবান হোক আপনার উপর। আমি বিশ্বাস করি ইসলামের প্রভু-ই আসল প্রভু। দয়া করে আমাকে মুসলমান বানিয়ে ধন্য করুন।' এই বলে রাসূলের সঃ সামনে মাথা নত করলো। রাসূল সঃ বললেন আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত করা ইসলাম সমর্থন করে না, মাথা উঠাও। এরপর ইকরামাকে রাসূল সঃ কালিমা পড়ালেন। মুসলমান বানিয়ে ধন্য করলেন। এরা ছিলেন রাসূল সঃ এর সেই সব নক্ষত্রতুল্য  সাহাবী, যাদের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ বলেন- রাদিয়াল্লাহু 'আনহুম ওয়া রাদূ 'আনহু

সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

কিছু কায়েমি কথা

আমি তো মাদরাসার ছাত্র, কি হবে আমার ভবিষ্যৎ? আমি তো বিজ্ঞান বুঝি না, আমি তো কেমেস্ট্রি বুঝি না, আমি তো হেল্থ বুঝি না, আমি তো ভূগোল বুঝি না, তাহলে কিভাবে কাটাবো আমার আগামী?প্রিয় বন্ধু! এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন প্রতিনিয়তই পড়তে হয় একজন মাদরাসার ছাত্রকে তাইনা? তবে তুমি কি ঘাবড়ে গেছো?আমি সে সব চেতনাধারী বুদ্ধিজীবী সমাজকে সাধুবাদ(!) জানাই, যারা আমাদের তিরস্কারের ভাষায় বলে- হুজুর হয়ে কি করবে? মাদরাসা-মসজিদে তিন হাজার টাকার বেতনে ভাত জুটবে?আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলবো-আপনারা ত্রিশ হাজার টাকা বেতনে চাকরী করেন অথচ রাতে শান্তিতে ঘুমুতে পারেন না। অভাব যেন পিছুই ছাড়ছে না। এতো টাকা দিয়ে তো আপনি আপনার স্ত্রীর মনটাই জয় করতে পারেন না। আর একজন মাদরাসার শিক্ষক তিন-চার হাজার টাকা বেতন পেয়ে রাতে শান্তিতে ঘুমায়। অভাব যেন তাদের অচেনা কিছু। আর তাদের বিবিরা তো এতেই সন্তুষ্ট। ঘরুন বাংলার সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ ঢাবি থেকে আপনি বি.এস.সি. এর সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে আসতেছেন, ঠিক সেই এমুহূর্তে পেছন থেকে একটি গাড়ি এসে আপনাকে ধাক্কা দিলো আর আপনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে, তাহলে কী হলো আপনার ভবিষ্যৎ?একজন প্রফেসর অবসর নেয়ার পর তার শিক্ষার্থীরা তাকে ভুলে যায়, পক্ষান্তরে মাদরাসার শিক্ষক যত বৃদ্ধ হবে তার সম্মান বেড়েই যাবে।একজন নেতার পিছু তার কর্মীরা ঘোরে শুধু বিনিময় পাওয়ার লোভে। টাকা নেই তো নেতাও নেই। কিন্তু বাংলার বহু আলেম নেতার দরজায় হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে কিসের আশায়? বাংলার সকল শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ক্যানভাস ঢাবির ভিসি তার শিক্ষার্থীর সামনে আসতে ভয় পায়, আল্লাহর কসম! একজন মাদরাসার শিক্ষকের পায়ে জুতা পড়িয়ে দিতে পারলে তার ছাত্ররা নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মনে করে।বলো তো, এতো ভাগ্যবান হয়েও কি নিজেকে ধন্য মনে করবো না?প্রিয় বন্ধু! তুমি যদি মাদরাসার ছাত্র হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করো তবে অন্তর থেকে বলো-আমি গর্বিত, আমি মাদরাসার ছাত্র।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে । হেফাজত আমীর

হেফাজতে ইসলামের আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিয়ে ফায়দা লুটার জন্যে দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্থবিরোধীরা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বি-বাড়িয়ার নাসিরনগরসহ দেশের আরো কয়েকটি স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাকে অস্বাভাবিক ও ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে বলেন, কোন সাধারণ নাগরিক এসব ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এসব ঘটনার পেছনে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশী ভারত, মায়ানমারসহ পশ্চিমা বিশ্বের বহু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নেতাদের বক্তব্যে ও মিডিয়ায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমাণত্মক ও ঘৃণাবাঞ্জক বক্তব্য ও হামলায় প্রকাশ্য উস্কানী দিয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। অথচ আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের উঁচু পর্যায় থেকে শুরু করে কোন স্তরের নেতৃবৃন্দসহ ব্যক্তিগত পর্যায়েও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিতে কখনো দেয় না। সংখ্যালঘুদের সার্বিক স্বার্থরক্ষায় বাংলাদেশে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে অভূতপূর্ব ঐক্য বজায় রয়েছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যারিষ্ঠ দেশ হলেও এখানে শত শত বছর ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ও উপজাতীয় জনগোষ্ঠীসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছেন। এই সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও উন্নতির জন্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুন্দর রাখা অত্যন্ত জরুরী।আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, ইসলাম অর্থ হচ্ছে শান্তি। তাই ইসলাম সবসময় শান্তির শিক্ষা দিয়ে থাকে। অমুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি ও সদাচারণের বিষয়ে ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। রাসূল (সা.)এর যাতায়াতের পথে যেই বৃদ্ধ ইহুদী নারী নিয়মিত কাঁটা পুঁতে দিত, তার অসুস্থতার খবর শুনে প্রিয়নবী তাকে দেখতে তার বাড়ি গিয়েছিলেন। অমুসলিমদের প্রতি সদাচরণের অগণিত নজির ইসলামের ইতিহাসে রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের আলেমদের অমুসলিমদের প্রতি সুন্দর সম্প্রীতিপূর্ণ মনোভাবের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা বাংলাদেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র। এই মাদ্রাসার প্রধান জামে মসজিদের মাত্র ৫ গজের মধ্যেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সীতাকালী  মন্দির অবস্থিত। অথচ এ যাবত কখনোই মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষকদের সাথে মন্দিরের সামান্যতমও গোলযোগের নজির নেই।শাহ আহমদ শফী বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীসহ বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সন্ত্রাসীরা যেই নৃশংস হত্যাকান্ড, নির্বিচার ধর্ষণ, বাড়ী-ঘরে আগুন ও বর্বরোচিত উচ্ছেদাভিযান চালাচ্ছে, পৃথিবীর ইতিহাসে জাতিগত এমন বর্বরতার নজির নেই। মিয়ানমারের ঘটনায় বাংলাদেশের মুসলমানগণ অত্যন্ত মর্মাহত, ক্রুদ্ধ ও প্রতিবাদমূখর। বাংলাদেশের মুসলিম জনতার পাশাপাশি এদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও মিয়ানমার সরকারের নির্মমতা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদে শামিল হয়েছে, এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বাংলাদেশের সুন্দর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্যেও এটা উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের ঘটনায় বাংলাদেশে বসবাসকারী বৌদ্ধসম্প্রদায়ের লোকজনের উপর এদেশের মুসলমানদের কোন নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে না, ইনশাআল্লাহ। হেফাজত আমীর বর্মার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন দুষ্কৃতিকারী মহল যেন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উস্কানীর মতো কোন ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্যে সকলের সজাগ ও সতর্ক থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।গতকাল (৩ ডিসেম্বর) শনিবার বাংলাদেশের বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাথে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করতে এলে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে এসব কথা বলেন। সম্মিলিত বৌদ্ধ নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক লোকপ্রিয় বড়–য়ার নেতৃত্বে বৌদ্ধ প্রতিনিধি দলে ছিলেন, সমন্বয়কারী মিথুন বড়–য়া, বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রী মৎ লোকজিৎ খের, শ্রী মৎ সংখানন্দ খের, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়–য়া, অধ্যাপক ঝন্টু কুমার বড়–য়া, সীমান্ত বড়–য়া, শিক্ষক লিটন বড়–য়া, নিরুপম বড়–য়া, বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রী মৎ শাসন বংশ মহাথের, বৌদ্ধ ভিক্ষু পূর্ণানন্দ থের, বৌদ্ধ ভিক্ষু দিপানন্দ থের, বৌদ্ধ ভিক্ষু ইন্দ্রসেন, বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্যোতিপাল শ্রমন প্রমুখ। সাংবাদিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তর হাটহাজারী প্রতিনিধি আবু তালেব এবং বাংলার চোখ-এর হাটহাজারী প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম। সন্ধ্যা ৬টায় থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী হেফাজত আমীরের সাথে বৌদ্ধ প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। এসময় হেফাজত আমীরের সাথে আলোচনায় শরীক ছিলেন, সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী, আমীরের প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ, হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল্লাহ নজীব, হেফাজত নেতা মাওলানা হাজী মুজাম্মেল হক, মাওলানা হাবীবুল্লাহ আজাদী প্রমুখ।বৌদ্ধ প্রতিনিধি দলের পক্ষে সম্মিলিত বৌদ্ধ নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক লোকপ্রিয় বড়–য়া, সমন্বয়কারী মিথুন বড়–য়া, বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রী মৎ লোকজিৎ খের, শ্রী মৎ সংখানন্দ খের, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়–য়া বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর যে নৃশংস হত্যাকান্ড, অবাধ ধর্ষণ, বাড়ি-ঘরে অগ্নি দেওয়াসহ মুসলিম জাতিগত যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই। এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ বুদ্ধ ধর্মের শান্তির শিক্ষার চরম অবমাননা। বর্মার ঘটনায় বৌদ্ধধর্মাবলম্বী হিসেবে আমরা লজ্জিত ও অপমানিত। তারা বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের পক্ষে মিয়ানমারের শাসক মহলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি আন্দোলনে আমরাও শামিল হয়েছি। ন্যায় ও শান্তির পক্ষে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। এ সময় প্রতিনিধি দলের নেতারা হেফাজত আমীরের আন্তরিকতা ও সম্প্রীতির কথায় মুগ্ধ হয়ে ভূয়ষি প্রশংসা করে শাহ আহমদ শফীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি বাংলাদেশের মুসলমানদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শীর্ষ নেতা। আমাদের প্রতি আপনি যে আন্তরিকতা ও সহানুভূতি দেখিয়েছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ ও আশ্বস্ত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর আপনার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক মূল্যবান ও অভিভূত হওয়ার মতো। আমরা আপনার সাথে দেখা করে এবং দীর্ঘ আলোচনা করে অনেক সুন্দর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পেরেছি। ইসলামের সত্যিকারের সৌন্দর্য ও শান্তির বার্তা আমরা আজকে আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করছি। রোহিঙ্গার নির্যাতিত, নিপীড়িত মুসলমানদের পক্ষে আমাদের প্রতিবাদি কর্মসূচী অব্যাহ থাকবে। আমরা আপনার কাছে বিশেষভাবে আশা করছি, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সুন্দর সহাবস্থান অটূট রাখার বিষয়ে আপনি নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার যে কোন আহ্বান অনেক মূল্যবান ও ফলদায়ক”।হেফাজত আমীর বৌদ্ধ প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা বর্মার মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি, কোন সাম্প্রদায়িক আওয়াজ আমরা তুলিনি। ইসলাম শান্তির শিক্ষা দেয়। সেই মতে বাংলাদেশের মুসলমানরা অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। বাংলাদেশের বৌদ্ধধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সকল অমুসলিম নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।হেফাজত আমীরের সাথে বৈঠকের পূর্বে বৌদ্ধ প্রতিনিধি দলটি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র ‘মাসিক মুঈনুল ইসলাম’ কার্যাল পরিদর্শন করেন। এ সময় পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ও হেফাজত আমীরের প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ প্রতিনিধি দলকে অভ্যর্থনা জানান এবং রোহিঙ্গা ইস্যু ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিষয়ে প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় করেন। বৌদ্ধ প্রতিনিধি দলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে হেফাজতে ইসলামের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়ে আশ্বস্ত করে মাওলানা মুনির আহমদ জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে হেফাজতে ইসলামের যে কোন কর্মসূচী প্রণয়নে এদেশে বসবাসকারী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা বিঘিœত করতে কোন দুষ্কৃতিকারি যেন হেফাজতের কর্মসূচীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেই দিকটাও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।সবশেষে বৌদ্ধ প্রতিনিধি দলকে জুস, কেক, আপেল দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। রাত ৮টায় প্রতিনিধি দলকে হেফাজত নেতৃবৃন্দ আন্তরিকভাবে বিদায় জানান।
সুত্র: https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1416067078405289&id=100000060306648

শীতঋতুর গল্পে । রিফাত মাহমুদ

প্রিয় বন্ধুরা! তোমরা নিশ্চয় জানো, শরৎঋতু বিদায় নিয়ে শীতঋতু আগমনে।আর ঋতুরাণীর দেশের এ ঋতুটি অতি ঠাণ্ডা একটি ঋতু। কনকনে শীত পড়ে। থরথরে সবার শরীর কাপিয়ে তোলে। ঠাণ্ডার ছোয়া পেয়ে দাতগুলো কিরমিরিয়ে ওঠে। আর ঘনঘন কুয়াশায় ছেয়ে যায় সবগুলো গ্রাম-শহর। হৃদয়ে কেমন যেন এক অন্যরকম অনুভূতি জাগায়। সত্যি এ ঋতুটি খুব আরামদায়ক। খুবি শীতল একটি ঋতু।আমার এ কথাগুলো শোণে নিশ্চয় তোমাদের সেই ছোটবেলার শীতকালের কথা মনে পড়েছে। তাই না? হ্যাঁ, ঠিক তাই। কতই না মজার ছিলো সেই ছোটবেলার শীতকালটা! আগের মতো শীত এখন আর সিক্তভাবে আলিঙ্গন করেনা। শীতঋতুটি মনে হয় পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চলছে। তাই এখন শীতের মতো শীত লাগেনা।তোমরা হয়তো মনে মনে ভাবছো এসব কথা কেন বলছি? যেহেতু শীতঋতু চলছে তাই তোমাদের সাথে শীতঋতুর গল্পে মগ্ন হলাম।তোমরা হয়তো খেয়াল করেছো, শীত যখন আসে আসে ভাব, তখন কাশফুলগুলো কতো সুন্দররুপে রুপ ধারণ করে, এবং মাঠে মাঠে বিস্তৃতভাবে ফোটে। সত্যিই দৃশ্যটি খুব মুগ্ধকারা। তাই না? হ্যাঁ, ঠিক তাই।আল্লাহ কি না করতে পারে? বলো। আল্লহ সবই করেন, করেছেন, করতেছেন।তোমাকে আমাকে প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে কে লালন করেন? আমাদের প্রতিপালক সমস্ত জগতের মালিক মহান আল্লাহ তাআলাই এ সব করেন। এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। এবং ঈমানও বটে। সুতরাং আল্লাহ সবই করেন এ আকিদা সবার থাকা চাই।মুগ্ধকারা সেই দৃশ্যটি খুবি মুগ্ধকারা। আর শোণো, শীতঋতুতেই ফুলেরা বেশিরভাগ জাগ্রত হয়ে থাকে। নানারকম ফুলেরা এ ঋতুতে চোখ মেলে থাকে। মনে হয় এ ঋতুটা তাদের খুব প্রিয়। তাই তারা জেগে ওঠে এবং ফুটে থাকে আর সবাইকে মুগ্ধ করে তোলে।আচ্ছা বলতো শীতঋতুতে ঠাণ্ডা লাগে কেন? বলতে পারবে? তোমরা আমার প্রশ্নটি শোণে অবাক হচ্ছো। আর মনে মনে ভাবছো এটা আবার কেমন প্রশ্ন? শীতকালে তো শীত বা ঠাণ্ড লাগবেই।হ্যাঁ, আমিও বলি শীতকালে তো ঠাণ্ডা লাগবেই। শীতকালে ঠাণ্ডা না লাগলে তাহলে কি গরমকালে লাগবে! না, তা হতে পারেনা। আল্লাহ ঋতুগুলোকে যেই যেই কাজে সৃষ্টি করেছেন, তারা তো সেই কাজ নিয়ে আমাদের মাঝে বেড়াতে আসবে। তাই না? হ্যাঁ, ঠিক তাই। আসলে কি শীতঋতুটা হলো খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়া যুক্ত ঋতু। কুয়াশায় সিক্তসকালে কিচ্ছু দেখা যায় না। শুধু সাদা সাদা ধুয়ার মতো করে কুয়াশাগুলো আমাদের চোখে ভাসে।কোনোদিন হয়তো রোদ দেখা যায়। আবার কোনোদিন তা দেখাই যায়না। সূর্য তখন ঠিকমতো আলো বিলাতে পারেনা। সূর্যের তাপ যেন শীতঋতুর কাছে হার মানে। আর হার মানাতে মনে হয় ঠাণ্ডা আবহাওয়া আমাদের জড়িয়ে নেয়। এ জড়িয়ে ধরাতে আমাদের গা'টা শুরশুরে ভাবে ক্ষিরক্ষিরিয়ে ওঠে। আর কাপতে থাকে। শীতল অনুভব হয়।তোমরা হয়তো অনেকে জানো শীতঋতুটি প্রায় সবরি প্রিয় ঋতু। এ ঋতুটি শুধু আমাদের দেশে যে, তা নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই শীতঋতুটি ঘুরে বেড়ায়।আরবের কথা মনে হয় অনেকে জানো। সেখানে প্রখর তাপ। যখন সিরিয়া ও ইয়ামানে শীতঋতু বেড়ায়। তখন তারা বছরে দু'বার সেখানে ব্যবসার জন্য যেতো। এ নিয়ে মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের ৩০ পারায় সূরা কোরাইশ নামে একটি সূরাও আছে। এ সূরাটি আমাদের জন্য খুবি উপদেশমূলক।আর শোণো, আল্লাহ যা তোমাকে দান করেন, তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর শোকর আদায় করতে ভুলনা কিন্তু। কেন বললাম কথাটি? কারণ এ সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে তখন, যখন কোরাইশরা কাবাগৃহের প্রতিপালকের উপসনা করতোনা। এবং তাঁর নেয়ামতের শোকর আদায় করতোনা। অথচ তারা এ কাবাগৃহের সুবাদেই এ নেয়ামত উপভোগ করতো।আচ্ছা, তোমরা যাতে কিছু জানতে পারো এবং শিখতে পারো তাই আমি এ সূরাটির শিক্ষণীয় উপদেশগুলো তোমাদের শুণিয়ে গল্পটা সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাবো।তবে ভালো করে মন দিয়ে শোণো।* আল্লাহর নেয়ামতের শোকর আদায় করা ওয়াজিব এবং তদীয় প্রদত্ত নেয়ামতকে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টি বিধানে তা ব্যয় করা অবশ্য কর্তব্য।* উপাসনা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যই ওয়াজিব, অন্য কিছু অর্থাৎ গাইরুল্লার ইবাদত বা উপসনা করা হারাম এবং এটা শিরক।* কোনো দ্বীনি বিষয়ের কল্যাণে কেউ কোনো ধন-সম্পদ বা মান-মর্যাদা প্রাপ্ত হলে তার উচিত কোনো প্রকার অহমিকায় লিপ্ত না হয়ে এবং একে নিজের প্রাপ্ত হক মনে না করে আল্লাহর শোকর ও আনুগত্যে মশগুল থাকা। (যেমন বাইতুল্লার বরকতে কুরাইশ সিরিয়া ও ইয়ামানে বছরে দুবার ব্যবসার সুযোগ লাভ করেছিলো কিন্তু তারা তা পেয়ে তাঁর শোকর আদায় এবং আনুগত্য করেনি।)আর সূরা কোরাইশ সব ধরণের বালা-মুসিবত দূর করার জন্য একটি পরিক্ষত ও অব্যর্থ আমল।তাই আমাদের উচিত বিপদাপদে ধৈর্য ধরে এ সূরাটি পাঠ করা। সুতরাং সবাই এ আমলটি করবো ইনশাআল্লাহ।যাই হোক আশা করি তোমরা এ উপদেশগুলো তোমাদের হৃদয়ে গাথবে।আচ্ছা, আজকের জন্য এখানেই বিদায়। ভালো থেকো। শীতঋতুকে বুকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে।
www.facebook.com/monthlynabodak 

স্বাধীনতার মাসে উল্টো সুর... স্বাধীনতাকে বলছি------- স্বাধীনতা, আমি তোমাকে চেয়েছি পবিত্র ভোরের জন্য। তোমার স্নিগ্ধ ভালোবাসায় পেখম মেলবে প্রকৃতি। রৌদ্রছায়া খেলা করবে দুপুরবেলা। শীতলছায়া ঘেরা বাগিচা থাকবে। সুরভী ছড়ানো ফুল থাকবে। পাখির কলরব থাকবে। আমি আরো চেয়েছি তোমায় একটি আদর্শ মায়ের জন্য। একটি আদর্শ পিতার জন্য। একটি আদর্শ সমাজের জন্য। কিন্তু আমি একি দেখছি? হে আমার স্বাধীনতা, আমি তো সকাল হলে শিশুর আর্তনাদ শুনতে চাই নি। আমি তো পত্রিকা খুলে ভাইয়ের লাশের ছবি দেখতে চাই নি। আমি তো জনতার বাঁধভাঙ্গা হাহাকার শুনতে চাই নি। আমি তো ধর্ষিতা বোনের আর্ত চিৎকার শুনতে চাই নি। স্বাধীনতা, তুমি কি জানোয়ারের কোনো হিংস্র থাবা? তুমি কি কোনো জালেমের চক্রান্ত ? নাকি তুমি কোনো ইজ্জতহারা মায়ের আঁচল? হে আমার স্বাধীনতা। স্বাধীনতা, তোমায় পেয়ে কি হলো আমার? পেয়েছি কিছু ধর্ষক, যারা পবিত্র মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করে। পেয়েছি কিছু দূর্ণীতিবাজ, যারা সমাজে বিশৃঙ্ক্ষলা সৃষ্টি করে। পেয়েছি কিছু সন্ত্রাস, যারা দেশ নিয়ে তাণ্ডবলীলা খেলে। স্বাধীনতা, তোমাকে বলি- তুমি তোমার জায়গায় ফিরে যাও, আমি এমন স্বাধীনতা চাই নি। তোমার মতো স্বাধীনতা আমি চাই নি। না... আমি চাই নি। www.facebook.com/editor.ahmadullahashraf

ছোট মানুষগুলো সবসময়ই নিষ্পাপ হয়।তাদের চিন্তা চেতনাগুলো ও তাদের মতই।ওরা জগত বুঝে না,নিজেদের মত একটা জগত তৈরী করে নেয়।তাদের চলা,কথা বলা,কচি কচি সব বায়না,গাল ফুলানো সব কিছুর মাঝেই কেমন একটা সরলতা কাজ করে।ছোট্ট একটা প্রশংসায় বিশ্বজয়ের আনন্দ ফুটে উঠে মুখাবয়বে।ওরা মানুষ হিসেবে খুব ছোট্ট একটা প্রাণী হলেও ওদের রয়েছে সূক্ষ্ম অনুভূতিবোধ।'সাইলেন্ট লিসেনার' বা 'সাইলেন্ট অবসারভার' শব্দগুলো অনায়াসে ওদের নামের সাথে যুক্ত করে দেওয়া যায়।আমরা যারা প্রভুর অসীম অনুগ্রহে মা বাবা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি,তারাও ভুল করে ওদের কখনও কখনও গলগ্রহ মনে করতে কার্পণ্য করি না।ঘুম থেকে উঠা থেকে বিছানায় পিঠ লাগানো,এমনকি স্বপ্নেও আমরা তাদের উন্নতির জন্য মগজ মস্তিষ্ক জলাঞ্জলি দিয়ে বসে আছি।তবে সেটা আমাদের ধারাভাষ্যমতে।শুধু যেটা করছি না তা হল, তাদের মত করে,তাদেরকে একটু সময় দেওয়া। এক গবেষণায় উঠে এসেছে,সন্তান তার বাবা মায়ের কাছে চায় একটা 'প্রাইম টাইম' যেটা শুধু তাদের মত করে তারা তাদের বাবা কিংবা মায়ের সাথে কাটাতে পারে।এটা হতে পারে ১০ কিংবা ১৫ মিনিট বা তার চেয়ে বেশি,দিনে কিংবা রাতে।এই সময়টুকুতে আপনি আপনার সন্তানের তাই হয়ে যান, যা সে চায়।কোন আদেশ,উপদেশ, নিষেধ কিছুই বরাদ্দ থাকবে না তার জন্য,আপনার পক্ষ থেকে।চেষ্টা করুন,প্রতিদিন একই সময়ে এই 'প্রাইম টাইম' সেট করতে।পরিবর্তনটা চোখে পড়ার মতই হবে বলে আশা করা যায়।আপনার সন্তান প্রতিদিনই অপেক্ষা করবে এই সময়টুকুর জন্য।আপনি কখনও ভুল করে ভুলে গেলেও দেখবেন সে আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।কিছুদিনের মধ্যেই তার চোখেমুখে আপনি দেখতে পাবেন এক অন্যরকম আত্মবিশ্বাস আর খুশির ঝিলিক। সেই আনন্দ নিঃসন্দেহে আপনাকেও করবে মাতোয়ারা।আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন,আপনি কিভাবে এক ছাদের নিচে থেকেও ছিলেন'আপন হয়েও পর'। 'সবার জীবন হোক সুন্দর'এই কামনাই রইল। লিখেছেন নাসরিন আক্তার সাথী নারী বিষক সম্পাদিকা

পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা: কী বলে ইসলাম?

= পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা জায়েজ কিনা-এ নিয়ে আমাদের সমাজে মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। আসলে কোরআন, হাদিস ও সালফে-সালিহীনের বক্তব্যে এ ...